আন্তর্জাতিক ও ভারত সংবাদ
৬ আগস্ট, ২০২৬
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মসজিদ থেকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে লাউডস্পিকার অপসারণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্ক এবার সরাসরি দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর দপ্তরে গড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নতুন দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন পশ্চিমবঙ্গ থেকে নির্বাচিত এনসিপিআই-এর (NCPI) তিন সংখ্যালঘু সংসদ সদস্য—আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান। বৈঠকে তারা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
📌 উদ্বেগের বিষয়: পশ্চিমবঙ্গে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার খুলে ফেলার সাম্প্রতিক অভিযান এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তৈরি হওয়া উদ্বেগ।
📌 সাংসদদের দাবি: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মেনে চললে তা যেন কেবল মসজিদ নয়, বরং দুর্গাপূজা, কালীপূজা কিংবা অন্য যেকোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য হয়।
📌 অমিত শাহের আশ্বাস: তিন সাংসদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
📌 রাজ্য প্রশাসনের অবস্থান: আদালতের নির্দেশ ও পর্ষদের বিধি মেনেই সব ধর্মের জন্য সমান নীতি অনুসরণের দাবি করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে এমপি আবু তাহের স্পষ্ট করে জানান যে, সুপ্রিম কোর্টের আইন বা নির্দেশনা মানতে তাদের কোনো দ্বিমত বা আপত্তি নেই। তবে প্রশাসন যদি একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে কেবল মসজিদ থেকে লাউডস্পিকার অপসারণের অভিযান চালায়, তবে তা সাধারণ মানুষের মনে মারাত্মক নেতিবাচক ধারণার জন্ম দেবে এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে।
সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার পর্ণশ্রী থানাসহ রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদের ডেকে যেভাবে লাউডস্পিকার খোলার চাপ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েই মূলত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
🏛️ পশ্চিমবঙ্গ লাউডস্পিকার বিতর্ক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • অভিযোগকারী পক্ষ : এনসিপিআই-এর তিন সংখ্যালঘু সাংসদ (আবু তাহের, খলিলুর রহমান, ইউসুফ পাঠান)।│
│ • মূল দাবি : সব ধর্মের উপাসনালয় ও উৎসবে আইন সমানভাবে প্রয়োগ করা। │
│ • কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কর্তৃক অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস।│
│ • স্থানীয় বিতর্ক : আইএসএফ ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি।│
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘
এর আগে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (ISF) এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ অভিযোগ করেছিল যে, সরকারি বিধি বলবৎ করার নামে বাস্তবে কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপরই অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে সংগঠনগুলো।
এমন এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু সাংসদদের সঙ্গে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বৈঠক পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রের তরফ থেকে এই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বা নমনীয় নির্দেশিকা আসে কি না।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |