গণহত্যার বিচার ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের বিক্ষোভ মিছিল
বাংলাদেশের ছাত্র অধিকার পরিষদ শনিবার (২২ মার্চ) দুপুরে রাজধানী ঢাকায় রাজু ভাস্কর্যের সামনে গণহত্যার বিচার এবং আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করে। বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী লীগ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নানা ধরনের স্লোগান দেন এবং তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।
মিছিলের নেতৃত্বে থাকা ছাত্ররা দাবি করেন, "আওয়ামী লীগের এ দেশে আর কোনো জায়গা হবে না" এবং শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। বক্তারা বলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান কর্মকাণ্ড দেশ ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর এবং এর পুনর্বাসন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। তারা অভিযোগ করেন যে শেখ হাসিনা এবং তার দলের সদস্যরা এখনও দেশের বাইরে থেকেও বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন, যা দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করে ফেলছে।
বিক্ষোভ মিছিলের বক্তারা স্পষ্টভাবে বলেন, "আওয়ামী লীগের এ দেশে আর কোনো জায়গা থাকবে না," এবং দাবি করেন যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা উচিত। তাদের মতে, এই দলটি দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিকৃতি ঘটিয়েছে এবং দেশের শাসন ব্যবস্থাকে একনায়কত্বের দিকে পরিচালিত করেছে। তারা জানিয়ে দেন, "যারা আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করবে, তাদের বিপক্ষে এই বিপ্লবী ছাত্র-জনতা শক্ত হাতে প্রতিহত করবে।"
এই বক্তব্যে তারা বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য নিজেদের আন্দোলনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দেন।
এদিনের মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্ররা আরও অভিযোগ করেন যে একটি কুচক্রী মহল সাধারণ জনগণকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উস্কে দিচ্ছে। তাদের মতে, এই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। বক্তারা স্পষ্টভাবে বলেন, "যদি যমুনা কিংবা ক্যান্টনমেন্ট থেকে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে ছাত্র-জনতা কঠিনভাবে এর জবাব দেবে।"
তারা সাফ জানিয়ে দেন যে, ছাত্র-জনতার এই প্রতিবাদ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল বা একনায়কের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র এবং দেশের ভবিষ্যতের পক্ষে একটি সংগ্রাম।
ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা সেনাবাহিনীর প্রতি একটি আহ্বান জানান, "আমরা সেনাবাহিনীকে দেশ এবং জনগণের পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানাই।" তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে সেনাবাহিনী দেশের সংবিধান, আইনের শাসন এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় তাদের দায়িত্ব পালন করবে। ছাত্র অধিকার পরিষদ দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে অনুরোধ জানায় যে তারা দেশের গণতান্ত্রিক আদর্শ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে এবং যেকোনো অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিবে।
বিক্ষোভকারীরা তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, তারা দেশের রাজনৈতিক অবস্থা এবং জনস্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধ। তাদের দাবি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক হতে হবে, যেখানে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারবে এবং রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার বন্ধ হবে।
ছাত্র অধিকার পরিষদ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, তাদের আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন, যা দেশের জনগণের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে কাজ করবে। তারা বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে, ছাত্র অধিকার পরিষদ আরও বলেন, "আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবো, আমাদের লক্ষ্য একটাই — গণতন্ত্র রক্ষা করা, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা এবং দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা।" তারা এই আন্দোলনকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম হিসেবে বিবেচনা করেন এবং আশা করেন যে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ তাদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে এই সংগ্রামে অংশগ্রহণ করবে।
ছাত্র অধিকার পরিষদের এই আন্দোলন, যদি একত্রিত হয়, তাহলে তা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। তাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে দেশের ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিবেশ এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |