| বঙ্গাব্দ

মিরপুরের কাজির বিরুদ্ধে ভুয়া জিডি ও নথি জালিয়াতির অভিযোগ

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 12-09-2026 ইং
  • 67165 বার পঠিত
মিরপুরের কাজির বিরুদ্ধে ভুয়া জিডি ও নথি জালিয়াতির অভিযোগ
ছবির ক্যাপশন: মিরপুরের কাজির বিরুদ্ধে ভুয়া জিডি ও নথি জালিয়াতির অভিযোগ

মিরপুরের কাজির বিরুদ্ধে ভুয়া জিডি ও নথি জালিয়াতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) মো. আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া সাধারণ ডায়েরি (জিডি), সরকারি দপ্তরের সিল ও কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে নথি তৈরির অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, পার্শ্ববর্তী ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার মো. মোজাম্মেল হকসহ অন্য কাজিদের বিরুদ্ধে এসব নথি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আজিজুর রহমান তা অস্বীকার করেছেন।

প্রাপ্ত নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট মিরপুর মডেল থানায় মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে একটি জিডি করা হয়েছে বলে দাবি করেন আজিজুর রহমান। ওই জিডির নম্বর হিসেবে ২১৭৮ উল্লেখ করা হয়।

জিডিতে অভিযোগ করা হয়, মোজাম্মেল হক আজিজুর রহমানের নির্ধারিত সেকশন-১০ ও ১১ এলাকায় গিয়ে বিয়ে নিবন্ধন করেছেন এবং এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে গালিগালাজ করা হয়েছে।

তবে মিরপুর মডেল থানার সংশ্লিষ্ট নথিতে ওই জিডির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। জিডির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা এসআই মো. আজিজুল হকও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

তার বক্তব্য, ২০২৩ সাল থেকে থানায় জিডি অনলাইনে করা হচ্ছে এবং হাতে লেখা বা অফলাইনে জিডি করার সুযোগ নেই। তার নামে এমন কোনো জিডির বার্তাও আসেনি বলে জানান তিনি।

এদিকে তেজগাঁওয়ের জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আজিজুর রহমানের জমা দেওয়া একটি অভিযোগপত্র নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে ওই অভিযোগের কোনো ফাইলের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে থাকা তথাকথিত গ্রহণ সিল ও স্বাক্ষর দেখানো হলে কার্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. বাবুল মিয়া সেগুলো নিজের নয় বলে দাবি করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এমন কোনো অভিযোগপত্র ওই কার্যালয়ে গ্রহণ করা হয়নি।

হাইকোর্টে রিটের বিষয়েও অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, এসব নথির ভিত্তিতে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাজি মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছিল। রিটটির নম্বর ৯০৬৫/২০২৬।

রিটে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিবাদী করা হয়। মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর ১১ নম্বর বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে পরবর্তী সময়ে ওই রিট প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

অন্য কাজিরও অভিযোগ

মিরপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাজি ড. এএস কাদির কিবরিয়াও আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে অন্য এলাকায় বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনের অভিযোগ তুলেছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আজিজুর রহমানের সহকারীর মাধ্যমে অন্য এলাকায় এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনেরও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার কাজি আজিজুর রহমানের

অভিযোগের বিষয়ে মো. আজিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিষয়গুলোকে পুরোনো ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, ‘ঝামেলা মিটে গেছে’।

হাতে লেখা জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, থানায় অনলাইন ও অফলাইন—দুইভাবেই জিডি করা হয়।

মোজাম্মেল হকের সঙ্গে আপস হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন আজিজুর রহমান। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো আপসনামা বা নথি দেখাতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে জিডি ও হাইকোর্টে রিটের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন কাজি মো. মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, কারও সঙ্গে তার শত্রুতা নেই এবং তার বিরুদ্ধে জিডি বা মামলা হয়েছে—এমন তথ্য তিনি প্রথম জানতে পেরেছেন গণমাধ্যমের মাধ্যমে।

তিনি অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে এ ধরনের হয়রানি থেকে মুক্তি ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

সূত্র: সংশ্লিষ্ট নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency