জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানালেন মোজাফফর
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বীর উত্তম জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আদালতের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের সূত্রে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার সময় সামরিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা, অভ্যুত্থানের অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা এবং সরাসরি গুলি বর্ষণকারী কর্মকর্তার নাম স্পষ্ট করতেই এই আইনগত জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করা হয়েছে।
সংবাদের মূল কিছু পয়েন্ট
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু: সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য সত্য উন্মোচন।
জবানবন্দি প্রদানকারী: মামলার আসামি প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন।
তারিখ ও সময়: রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬)।
প্রধান তথ্য: চট্টগ্রামের অপারেশন চালানোর সময় সরাসরি গুলি বর্ষণকারী সেনা কর্মকর্তার নাম প্রকাশ।
জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসা তথ্য ও জবানবন্দি
আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও তদন্তকারী সংস্থার সূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হামলাকারী সেনাদলের অগ্রবর্তী দলে ছিলেন তৎকালীন কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল সেনা কর্মকর্তা। জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর জানান, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কক্ষের সামনে পৌঁছানোর পর তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান সরাসরি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র থেকে ব্রাশফায়ার করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসার পরপরই তার ওপর একের পর এক গুলি চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী।
হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও তদন্তের ধারা
জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর আরও প্রকাশ করেন যে, এই সামরিক অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে তৈরি করা হয়েছিল। যার প্রধান নেপথ্য পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন তৎকালীন মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুর।
দীর্ঘদিন ধরে ধামাচাপা পড়ে থাকা এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য, ষড়যন্ত্রের গভীরতা এবং অন্য অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা চিহ্নিত করতে এ জিজ্ঞাসাবাদ বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। মামলাটির পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে পেশ করার প্রস্তুতি চলছে।