| বঙ্গাব্দ

প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি, পোশাক ও চুলের স্টাইলের অনুকরণ—ইসলাম কী বলে?

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-10-2026 ইং
  • 1513 বার পঠিত
প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি, পোশাক ও চুলের স্টাইলের অনুকরণ—ইসলাম কী বলে?
ছবির ক্যাপশন: প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি, পোশাক ও চুলের স্টাইলের অনুকরণ

অমুসলিম দল বা খেলোয়াড়কে সমর্থন করা এবং খেলাধুলা নিয়ে ইসলাম কী বলে? মুফতি মোহাম্মদ আমীর হোসাইনের ব্যাখ্যা

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

খেলাধুলা মূলত সুস্থ বিনোদনের মাধ্যম হলেও বর্তমান সময়ে তা বিশ্বজুড়ে এক ধরনের উন্মাদনা এবং কোটি কোটি টাকার আর্থিক বাণিজ্যে রূপ নিয়েছে। অনেক সময় প্রিয় দল বা অমুসলিম খেলোয়াড়কে কেন্দ্র করে মানুষের আবেগ মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী খেলোয়াড়দের জন্য অন্ধ ভালোবাসা ও সমর্থনের কারণে নানা অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে থাকে।

প্রশ্ন উঠেছে, একজন মুমিনের জন্য অমুসলিম দল বা খেলোয়াড়কে সমর্থন ও ভালোবাসা প্রকাশের ইসলামিক বিধান কী? পাশাপাশি মুসলিম দেশ বা খেলোয়াড়দের সমর্থন করার বিষয়েই বা শরিয়তের নির্দেশনা কী?

সাম্প্রতিক এক ফতোয়ায় মোহাম্মদপুরের শাইখ আবু সাঈদ ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মুফতি ও মুহাদ্দিস মোহাম্মদ আমীর হোসাইন এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।

খেলাধুলা ও জুয়ার সংযোগ প্রসঙ্গে

মুফতি মোহাম্মদ আমীর হোসাইন বলেন, প্রথমত বর্তমান বিশ্বের বড় বড় টুর্নামেন্ট ও খেলাধুলার সঙ্গে কোটি কোটি টাকার জুয়া বা বাজি ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যা ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও হারাম। পবিত্র কোরআনুল কারিমে জুয়াকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

তাঁর মতে, এই জাতীয় জুয়ার আসর বা হারাম কাজকে যারা সমর্থন জোগায়, এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকে এবং তাদের জয়ে উল্লাস বা পরাজয়ে মনঃকষ্ট প্রকাশ করে—তা প্রকারান্তরে সেই হারাম কাজকেই সমর্থন ও বাস্তবায়নের নামান্তর। আল্লাহ তাআলার সুস্পষ্ট হুকুম অমান্য করে এমন নাজায়েজ কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করা ঈমানের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

অমুসলিমদের প্রতি অন্ধ ভালোবাসা ও অনুকরণ

অমুসলিম খেলোয়াড়দের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা এবং তাদের অন্ধ অনুকরণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সমাজে তরুণরা যেভাবে অমুসলিম খেলোয়াড়দের প্রতিকৃতিতে সম্মান প্রদর্শন করে, তাদের জার্সি বা বিশেষ পোশাকে নিজেদের সজ্জিত করে কিংবা তাদের মতো করে চুল কাটে—এগুলো শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

পবিত্র কুরআনের সুরা আল-মায়িদের ৫১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন:

“হে মুমিনগণ! তোমরা ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সে তাদেরই একজন হবে...” (আল-মায়িদাহ: ৫১)

এছাড়াও রাসূলে কারিম (সা.)-এর হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, “যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করল, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে।”

অতএব, খেলার আড়ালে আন্তর্জাতিক এই জুয়া ও বিধর্মী সংস্কৃতিকে যারা অন্ধভাবে সমর্থন করবে এবং কাফের বা অমুসলিম খেলোয়াড়দের প্রতি অন্তরে গভীর ভক্তি ও ভালোলাগা পোষণ করবে, তা শরিয়তের দৃষ্টিতে অত্যন্ত বিপজ্জনক।

গুনাহকে গুনাহ মনে না করার মারাত্মক পরিণতি

মুফতি আমীর হোসাইন আরও একটি গুরুতর বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, বর্তমান যুগে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াচর্চার নামে এই হারাম ও গর্হিত বিষয়গুলোকে সাধারণ মানুষ বা যুবসমাজ আর কোনো গুনাহের কাজ বলেই মনে করছে না। অথচ ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, জেনেশুনে বড় কোনো হারাম কাজকে গুনাহ মনে না করা বা তা হালকাভাবে নেওয়া ইমানের পরিপন্থী।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, অমুসলিম খেলোয়াড়রা যতই ভালো মানের খেলা উপহার দিক না কেন, আল্লাহ তাআলার ওপর পূর্ণ ইমান না আনার কারণে তাদের পার্থিব অর্জন পরকালের বিচারে কোনো উপকারে আসবে না। সুতরাং, কোনো মুসলমানের জন্যই আন্তর্জাতিক এসব খেলার সঙ্গে জড়িত অমুসলিম দল বা খেলোয়াড়দের অন্ধ ভক্ত বা সমর্থক হওয়া জায়েজ নয়।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency