যুদ্ধের মাধ্যমে শত্রুরা ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান
প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
সামরিক শক্তি প্রয়োগ কিংবা যুদ্ধের মাধ্যমে শত্রুভাবাপন্ন কোনো দেশ ইরানকে কখনোই আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না বলে অত্যন্ত কঠোর ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, তেহরান সবসময় কূটনৈতিক আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে চলমান যাবতীয় আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টার পাশাপাশি শত্রুপক্ষের অসংগত ও অন্যায্য দাবির বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সির’ এক বিশেষ বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও প্রশাসনিক বিশেষ কর্তৃত্বসোমবার ইরানের বিভিন্ন প্রাদেশিক গভর্নর এবং প্রধান শহরগুলোর মেয়রদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সার্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। বৈঠকে তিনি বলেন, “বর্তমান চরম সংকটকালে জনগণের অভূতপূর্ব সংহতি, ঐক্য ও সামাজিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েই শত্রুদের তৈরি করা সব ধরনের অর্থনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে ইরানকে।”
প্রেসিডেন্ট জানান, তাঁর প্রশাসন মূলত কূটনীতি ও আলোচনার পথেই বিদ্যমান সংকটগুলো সমাধানের সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে ইসলামের মহান বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বর্তমান প্রশাসনকে কিছু বিশেষ প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক কর্তৃত্ব প্রদান করেছেন বলে তিনি প্রকাশ করেন।
অন্যায্য দাবির বিরুদ্ধে হুশিয়ারি ও বাণিজ্যে বাধার প্রসঙ্গযুদ্ধে কোনো পক্ষেরই প্রকৃত পক্ষে লাভ হয় না উল্লেখ করে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, “শত্রুরা সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধের ভয় দেখিয়ে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যে দুঃস্বপ্ন দেখছে, তা কখনোই সম্ভব নয়। আমরা শত্রুর যেকোনো অপপ্রচার, মিথ্যাচার ও অন্যায্য অতিরিক্ত দাবির বিরুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব।”
ইরানের ভৌগোলিক সীমান্তে নিষেধাজ্ঞা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্বাভাবিক সীমান্ত বাণিজ্য ব্যাহত করার বিষয়ে চক্রান্ত চলছে জানিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, শত্রুপক্ষ মূলত অর্থনৈতিক অবরুদ্ধতা সৃষ্টি করতে আমাদের সীমান্ত বন্ধ ও আন্তঃসীমান্ত লেনদেন অচল করে দেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তবে সচেতন জনগণের অভূতপূর্ব সহযোগিতায় বহিরাগত শত্রুদের সব ধরনের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সাধারণ জনগণ যদি সরকারের গৃহীত পদেক্ষেপ ও নীতির ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে, তবে আমরা সর্বোচ্চ শক্তি ও সাহসের সঙ্গে শত্রুদের যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করতে পারব।”