| বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগ সংস্কারে নতুন প্রস্তাব: প্রদেশ বিভাজন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 07-02-2025 ইং
  • 3842244 বার পঠিত
বাংলাদেশে জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগ সংস্কারে নতুন প্রস্তাব: প্রদেশ বিভাজন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
ছবির ক্যাপশন: বাংলাদেশে জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগ সংস্কারে নতুন প্রস্তাব

প্রতিবেদন: জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগ সংস্কারে কমিশনের সুপারিশ - প্রদেশ ব্যবস্থা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশে জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগ সংস্কারে গঠিত কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে, যা দেশটির প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। কমিশনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশকে ৪টি প্রদেশে বিভক্ত করে প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থা চালু করা উচিত। এতে কেন্দ্রীয় সরকারের একক কর্তৃত্ব কমবে, তবে বিভিন্ন বিশ্লেষক এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে দেশের প্রকৃত উপকারিতা হবে না।

প্রধান প্রস্তাবনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জকে আলাদা সিটি সরকার গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে, যা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার জন্য প্রস্তাবিত। এছাড়া, কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ ঘোষণা করার পাশাপাশি আলাদা সুপিরিয়র ক্যাডার সার্ভিস গঠনেরও সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

তবে, এই সংস্কারগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতামত একপাক্ষিক নয়। সাবেক সচিব আব্দুল আউয়াল মজুমদার মন্তব্য করেছেন, দেশকে প্রদেশে বিভক্ত করলে তা দুর্নীতি এবং মাথাপিছু ব্যয় বাড়াবে, এবং জনগণের কোনো লাভ হবে না। তার মতে, এতে শুধু সম্পদ অপচয়কারী একটি গোষ্ঠী তৈরি হবে। তবে, সিটি সরকার গঠনের প্রস্তাবনা তাকে যুক্তিযুক্ত মনে হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবর রহমানও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, জানিয়ে দিয়েছেন যে, এসব সংস্কারের ফলে দুর্নীতি বাড়তে পারে এবং জনগণের ওপর করের বোঝা বেড়ে যাবে। তিনি মনে করেন, জনগণের মতামত যাচাই করেই সংস্কার প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করা উচিত।

প্রশাসনিক ক্যাডারে কোটা সংস্কার

একটি উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবনায় উপসচিব পদে প্রশাসন ক্যাডারের কোটা ৭৫ থেকে ৫০ শতাংশে কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। তবে, সাবেক সচিব আব্দুল আউয়াল মজুমদার মনে করেন, এটি বাস্তবায়ন হলে যথাযথভাবে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা উপসচিব পদে আসার সুযোগ পাবেন না, এবং সেই কারণে এ সুপারিশটি গ্রহণযোগ্য নয়।

বিচার বিভাগ সংস্কার

বিচার বিভাগ সংস্কারে কমিশনের প্রস্তাবনায় রয়েছে উপজেলা পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপন, প্রধান বিচারপতি নিয়োগে আলাদা কমিটি গঠন এবং বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠনের কথা। কিন্তু, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আদালত প্রতিষ্ঠা হলেও বিচার বিভাগে শৃঙ্খলা আনা যাবে না যদি বিচারকদের স্বাধীনতা নিশ্চিত না করা হয়। কাজী মোহাম্মদ মাহবুবর রহমানের মতে, বেঞ্চ পরিবর্তন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পাওয়া সম্ভব নয়, বরং বিচারকদের কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।

রাজনৈতিক ঐক্য ও সামাজিক চাপ

অবশ্য, কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত এসব সংস্কার বাস্তবায়নের ব্যাপারে সংশয় রয়েছে, বিশেষত রাজনৈতিক ঐক্যের অভাব এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের হস্তক্ষেপের কারণে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক চাপ সৃষ্টি করা হলে, সংস্কারগুলি বাস্তবায়িত হতে পারে।

আরও পড়ুন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency