“পিআর ছাড়া নির্বাচন মানি না”—অন্তর্বর্তী সরকারকে চ্যালেঞ্জ জামায়াতের গোলাম পরওয়ারের
বাংলাদেশের রাজনীতিতে জুলাই সনদ এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়। নির্বাচনী সংস্কার, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR system), লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ও দল নিষিদ্ধকরণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএনপি যেখানে পিআর পদ্ধতির বিপক্ষে, সেখানে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনাদের আন্দোলন ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।
শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫) জুমার নামাজের পর রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এক বিক্ষোভ সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন:
“যখনই পিআর পদ্ধতির কথা বলি, তখনই সংবিধান দেখানো হয়। কিন্তু সংবিধান মানলে তো আপনারা অবৈধ। শেখ হাসিনার সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৯ সালে। তাহলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন বলছেন কেন?”
তিনি দাবি করেন,
৭০ শতাংশ জনগণ পিআরের পক্ষে সার্ভেতে মত দিয়েছে।
ঐকমত্য কমিশনে ৩১ দলের মধ্যে ২৫টি দল পিআরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তারপরও অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি গণভোটকে এড়িয়ে যাচ্ছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন:
“গণভোট দিন। যদি জনগণ পিআরের বিপক্ষে যায়, জামায়াতও মেনে নেবে। কিন্তু জনগণের রায়কে ভয় পেয়ে গণভোট থেকে পলায়ন করলে সেটা গণতন্ত্র নয়।”
তিনি আরও বলেন:
“গায়ের জোরে দেশ শাসনের দিন শেষ।”
বিরোধী দল দমন করে আজীবন ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হবে না।
পিআর ছাড়া নির্বাচনে গেলে আবার “আরেক হাসিনা” ও “ফ্যাসিবাদ” জন্ম নেবে।
পিআরের ভিত্তিতে নির্বাচিত সংসদ হলে কালো টাকা ও পেশিশক্তি নির্ভর রাজনীতি শেষ হবে।
এই বক্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করেছে। বিএনপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তারা পিআর পদ্ধতি বা গণভোট কোনোটি মেনে নেবে না। অন্যদিকে জামায়াত বলছে, “জনগণের রায়ই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত।”
ফলে প্রশ্ন উঠছে—আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে বিরোধীরা কি ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে, নাকি এর মধ্য দিয়ে বিএনপির বিপরীতে একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে?
১. বিএনপির জন্য চাপ – জামায়াতসহ সাত দলের আন্দোলন বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে একা ফেলে দিতে পারে।
2. নির্বাচন অনিশ্চয়তা – নির্বাচনী সংস্কারে ঐকমত্য না হলে ফেব্রুয়ারির ভোট পিছিয়ে যেতে পারে।
3. গণভোট ইস্যু – গোলাম পরওয়ারের গণভোট দাবিতে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণের বিষয়টি রাজনীতির কেন্দ্রে এসেছে।
4. ঐকমত্য কমিশনের চ্যালেঞ্জ – আলোচনার টেবিলে সমাধান না আসলে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
যুগান্তর পত্রিকা, রাজনৈতিক প্রতিবেদন (২০২৫)
বাংলাদেশ প্রতিদিন আর্কাইভ (জুলাই সনদ ও ঐকমত্য কমিশন)
উইকিপিডিয়া: Aftermath of the July Revolution, July Charter (২০২৪–২০২৫)
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |