প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর জনপ্রিয়তা জরিপ পরিচালনা নিয়ে গুরুতর নৈতিক প্রশ্ন তুলেছেন। গণহত্যা ও দমন-পীড়নের মতো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও একটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে এই ধরনের জরিপ চালানো কতটা নৈতিক ও ন্যায়সঙ্গত—বুধবার (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সেই প্রশ্ন রাখেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার পোস্টে এই জরিপের উদ্দেশ্য এবং এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, বিশেষজ্ঞদের মতে এই ধরনের জনপ্রিয়তা জরিপ কোনো নিরপেক্ষ গবেষণার অংশ নয়, বরং এটি আওয়ামী লীগের অপরাধমূলক ইতিহাসকে ধীরে ধীরে আড়াল করার একটি চতুর প্রচেষ্টা।
তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, দলটির বিরুদ্ধে থাকা দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের দায় কেবল পুনর্বাসনের দাবি তোলে না, বরং জবাবদিহির দাবি তোলে।
শফিকুল আলম তার পোস্টে জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, দেশে ভয়ভিত্তিক রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হয়েছিল বিএনপির শাসনামলে নয়, বরং টানা ১৬ বছর (২০০৯-২০২৪) ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের আমলেই।
তিনি সেই সময়ের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বলেন:
বিরোধী রাজনৈতিক সমাবেশে হামলা, সড়ক দখল ও হতাহতের ঘটনা।
আগ্নেয়াস্ত্রের অবাধ উপস্থিতি এবং সহিংসতা।
ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষের আতঙ্কে দিন কাটানো।
প্রেস সচিবের মতে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কৌশল হিসেবে জনগণের ভয়কে হাতিয়ার করেছিল। তিনি বিশ্লেষকদের মতামতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যদি সরকার গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন সফলভাবে দমন করতে সক্ষম হতো, তবে তারা আরও দুই দশক ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারত।
কিন্তু তিনি উল্লেখ করেন, "নতুন প্রজন্ম ভয়কে উপেক্ষা করে রাস্তায় নামে। এর ফলে হাসিনা সরকার শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারে— গণহত্যা দিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যায় না।"
শফিকুল আলম প্রশ্ন তোলেন, "জনপ্রিয়তা জরিপ কি ইতিহাস মুছে ফেলতে পারে?" তিনি আরও প্রশ্ন করেন যে, আজকে আওয়ামী লীগ ১০ শতাংশ বা ২০ শতাংশ সমর্থন পাচ্ছে—এই ধরনের গণনা কি আদৌ অর্থবহ?
তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, "ফাইয়াজসহ আন্দোলনে নিহত তরুণদের স্মৃতি যখন এখনও তাজা, তখন এই ধরনের জরিপ শহীদদের প্রতি অবমাননার শামিল।"
প্রেস সচিব তার মন্তব্যের শেষ অংশে রাজনৈতিক জরিপের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করলেও, তিনি মনে করেন এর আগে প্রয়োজন জবাবদিহি। তার চূড়ান্ত মন্তব্য ছিল:
"ভবিষ্যতে রাজনৈতিক জরিপের প্রয়োজন হতে পারে, তবে তার আগে চাই জবাবদিহি। আওয়ামী লীগকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে, নিজেদের অতীত খোলামেলা স্বীকার করতে হবে এবং কোনো অজুহাত ছাড়াই সত্য প্রকাশ করতে হবে। জবাবদিহি ছাড়া স্বাভাবিকীকরণ হতে পারে না।"
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ১৯৯০-পরবর্তী বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক দলের জনসমর্থন যাচাইয়ের জন্য জরিপ পরিচালিত হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত একটি দলকে নিয়ে এই ধরনের জরিপ চালানো একটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যেখানে সেই দলের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুতর অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। প্রেস সচিবের এই বক্তব্য অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের বিচারিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার দৃঢ় মনোভাবের ইঙ্গিত বহন করে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্ট (১০ ডিসেম্বর, ২০২৫)।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মন্তব্য ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |