দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী: বিচার বিভাগে নতুন দিগন্ত
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে আজ নতুন অধ্যায় শুরু হলো। দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। রোববার (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টায় বঙ্গভবনে এক গম্ভীর ও মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ইতিহাসের সাক্ষী হন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশে এই পদে নিয়োগ পেয়েছেন। বিদায়ী প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ গতকাল শনিবার অবসরে যাওয়ার পর আজ থেকে জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নিয়োগ কার্যকর হলো।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর বিচারিক ক্যারিয়ার অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ১৯৮৫ সালে জজ কোর্ট এবং ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার যাত্রা শুরু। দীর্ঘকাল আইন পেশায় যুক্ত থাকার পর ২০০৩ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক এবং দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হন। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে পদোন্নতি পান। উল্লেখ্য, তার পিতা প্রয়াত এ এফ এম আবদুর রহমান চৌধুরীও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ছিলেন।
বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাস ও স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই সমান্তরালভাবে চলেছে। ১৯৫০-এর দশকে পাকিস্তান আমলে যখন মৌলিক অধিকার ও শাসনের প্রশ্নে বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করা হতো, তখন থেকেই স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল নির্যাস ছিল ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত ২৬ জন প্রধান বিচারপতি এই চেয়ার অলংকৃত করেছেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৭০-এর সেই উত্তাল সময় থেকে ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি বড় পরিবর্তনের পর বিচার বিভাগকে ঢেলে সাজানোর দাবি উঠেছে। ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর এই নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাষ্ট্র সংস্কারের যে অঙ্গীকার, তার অন্যতম প্রধান অংশ হলো বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
বর্তমান সময়টি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। একদিকে ১৭ বছর পর তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং রাজনীতির নতুন শিষ্টাচার, অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের আটক হওয়া এবং গাজার মানবিক বিপর্যয়—সব মিলিয়ে এক অস্থির বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশ যাচ্ছে। এই সন্ধিক্ষণে বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর ওপর বড় দায়িত্ব বর্তেছে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
১৯৫০-এর সেই অধিকার আদায়ের চেতনা ২০২৫ সালে এসে বিচার বিভাগীয় সংস্কারের মাধ্যমে পূর্ণতা পাবে বলে সাধারণ নাগরিকরা আশা করছেন। নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতির হাত ধরে বাংলাদেশের আদালতগুলো সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রস্থল হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে—এমনটাই এখন জনগণের প্রত্যাশা।
তথ্যসূত্র: ১. সুপ্রিমকোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি (২৮ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. আইন ও বিচার বিভাগ, আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপন (২৩ ডিসেম্বর ২০২৫)। ৩. বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাস ও বিবর্তন: ১৯৫০-২০২৫ (গুগল এনালাইসিস ও আর্কাইভ রিপোর্ট)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |