প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়ার সাথে সাথে পাল্টে গেছে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির সমীকরণও। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর ভারতের পক্ষ থেকে যে অভাবনীয় সাড়া পাওয়া গেছে, তাকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ‘কূটনৈতিক ইউটার্ন’ হিসেবে অভিহিত করছেন। বিগত চারটি নির্বাচনে ফলাফল প্রকাশের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী যে রেওয়াজ মেনে অভিনন্দন জানিয়ে আসতেন, ২০২৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ও নাম—উভয়ই ভিন্ন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভারতে সকাল ৯টা বাজার পরপরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক পোস্টে ‘সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপির নির্ণায়ক জয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য’ তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। মোদি লেখেন, “এই জয় দেখিয়ে দিল বাংলাদেশের মানুষ আপনার নেতৃত্বে আস্থা রেখেছে।” আধঘণ্টা পর এই একই বার্তা তিনি বাংলায় পোস্ট করেন, যা সরাসরি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ে নাড়া দিয়েছে। অভিনন্দন বার্তার পর তিনি সরাসরি টেলিফোনেও তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন।
তারেক রহমানের প্রতি দিল্লির এই মনোভাব পরিবর্তনকে বিস্ময়কর হিসেবে দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। ২০১৪ সালে মোদি যখন প্রথম ক্ষমতায় আসেন, তখন লন্ডনে নির্বাসিত তারেক রহমান বিজেপির সাথে সুসম্পর্ক গড়তে একটি প্রীতি উপহার পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সংবেদনশীলতার কারণে দিল্লি তখন সেই সৌজন্যের পাল্টা জবাব দেয়নি। ঢাকার সাবেক ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তীর মতে, শেখ হাসিনা বিএনপির সঙ্গে দিল্লির যোগাযোগের ব্যাপারে অত্যন্ত ‘স্পর্শকাতর’ ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন দিল্লির সেই জড়তা ভেঙে দিয়েছে।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯০০ সালের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই এই ভূখণ্ডের রাজনীতির সাথে দিল্লির একটি গভীর যোগসূত্র ছিল। ১৯৪৭-এর দেশভাগ, ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। তবে ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে এবং বিশেষ করে বিগত ১৫ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক একটি নির্দিষ্ট দলের বলয়ে সীমাবদ্ধ ছিল বলে সমালোচকরা মনে করেন। ২০২৬ সালের এই নির্বাচন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির পুনরুত্থান প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের মানুষ এখন একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং মর্যাদাশীল পররাষ্ট্রনীতি প্রত্যাশা করে। তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে এখন দিল্লি ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, দিল্লি এখন ইস্যুভিত্তিক সম্পর্কের দিকে এগোতে চায়। বিশেষ করে বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘু ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি সরকার। তবে সামগ্রিকভাবে আওয়ামী লীগহীন বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক সরকারের প্রয়োজনীয়তা ভারত অনুভব করছে। দিল্লিতে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি সরকারই ভারতের জন্য ‘সেরা বাজি’।
এদিকে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ইইউ পর্যবেক্ষক মিশন এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২৬-এর এই নির্বাচনকে ‘গ্রহণযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ড. আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, এবারের শপথ হবে সংবিধান রক্ষা এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়নের। লুৎফুজ্জামান বাবর ও ড. ওসমান ফারুকের মতো প্রবীণ নেতাদের বাসায় নবীন সংসদ সদস্যদের ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা, ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA), নির্বাচন কমিশন ২০২৬ ফলাফল, এবং পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তীর সাক্ষাৎকার।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনে তারেক রহমানের প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের আগামীর সম্পর্কের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অতীতে যে দূরত্বের দেয়াল ছিল, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে তা ভেঙে গিয়ে এক নতুন বাস্তবমুখী কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |