প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ঢাকা: বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব—প্রতিটি পটপরিবর্তনই রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে। ১৯ শতকের গোড়ার দিকে ব্রিটিশ পুলিশি ব্যবস্থার যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে এখন ২০২৬ সালের এক নতুন গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ ২০ বছরের বঞ্চনা শেষে এবার আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছেন ২০০৬ সালে নিয়োগ বাতিল হওয়া পুলিশের প্রায় সাড়ে ৬০০ এসআই ও সার্জেন্ট।
বিংশ শতাব্দীর শুরুতে (১৯০৫ পরবর্তী) ব্রিটিশ আমল থেকেই পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগ ছিল পুরনো। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের বীরত্বগাথা থাকলেও স্বাধীনতার পরবর্তী দশকগুলোতে রাজনৈতিক নিয়োগ ও বঞ্চনা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী গণতান্ত্রিক শাসনামলগুলোতেও এই ধারার ব্যত্যয় ঘটেনি।
বিশেষ করে ২০০৬ সালে দলীয় নিয়োগের অভিযোগ তুলে প্রায় সাড়ে ৬০০ এসআই ও সার্জেন্টের চূড়ান্ত নিয়োগ বাতিল করা হয়। তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তী ১৫ বছরের শাসনামলে তারা বিচারহীনতার শিকার হন। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এবং ২০২৬ সালের নতুন সংসদীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এখন সেই দীর্ঘ বঞ্চনা অবসানের সময় এসেছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। নিয়োগ বাতিল হওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ও জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "২০০৬ সালে রাজনৈতিক কারণে নিয়োগ বাতিল হওয়া সাড়ে ৬০০ এসআই ও সার্জেন্ট অবশ্যই তাদের চাকরি ফেরত পাবেন। তারা ন্যায়বিচার পাবেই।" তিনি আরও জানান, এই ফাইলটি দীর্ঘ সময় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে ঝুলে ছিল, কিন্তু কেন তা অনুমোদিত হয়নি তা স্পষ্ট নয়। তবে আদালতের রায় অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুনরায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং তারা নিয়োগ পাবেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে ২৭০১টি কনস্টেবল পদ খালি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই পদগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে পুলিশি কাঠামো যেমন শৃঙ্খলার প্রতীক ছিল, ২০২৬ সালের এই নতুন নিয়োগে সেই হারানো পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনাই সরকারের লক্ষ্য।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "কেউ পুলিশের কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। যদি কোনো রাজনৈতিক পক্ষ বা ব্যক্তি পুলিশের কাজে বাধা দেয়, তবে সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" ২০২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে 'পুলিশি রাজ' নয় বরং 'জনগণের পুলিশ' গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ১২৬ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী অনেকবার রাজনৈতিক চড়াই-উতরাইয়ের শিকার হয়েছে। ২০০৬ সালের নিয়োগ বঞ্চিতদের ফিরিয়ে আনা কেবল চাকরির পুনঃস্থাপন নয়, বরং এটি প্রশাসনিক সংস্কারের একটি বড় বিজয়। এতে প্রমাণিত হয় যে, দেরিতে হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ২০২৬ সালের এই সংসদীয় যাত্রা মূলত শোষিত ও বঞ্চিতদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
সূত্র: যুগান্তর, বাসস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেস উইং এবং গুগল নিউজ আর্কাইভ (পুলিশ নিয়োগ-২০০৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |