প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে দেশে আরও ২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৯৬১ জন।
শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সংক্রমণের দিক থেকে বরাবরের মতোই ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৬১ জন সন্দেহজনক রোগীর বিভাগভিত্তিক বিন্যাস নিম্নরূপ:
ঢাকা বিভাগ: ৪৭২ জন (সর্বোচ্চ)
চট্টগ্রাম বিভাগ: ১৬৭ জন
বরিশাল বিভাগ: ১২৯ জন
সিলেট বিভাগ: ৫৫ জন
খুলনা বিভাগ: ৫৫ জন
ময়মনসিংহ বিভাগ: ৪৪ জন
রাজশাহী বিভাগ: ৩৭ জন
রংপুর বিভাগ: ২ জন
গত দুই মাসের সামগ্রিক পরিসংখ্যান পরিস্থিতি জটিলতার গভীরতা নির্দেশ করে:
মোট সন্দেহজনক রোগী: ৫৬,৫৭২ জন (যার মধ্যে ঢাকা বিভাগেই রয়েছে ২৫,৪৯১ জন)।
মোট নিশ্চিত রোগী: ৭,৫২৪ জন (যার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫,২১৫ জন)।
হাসপাতালে ভর্তি: এ পর্যন্ত মোট ৪১,০২৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
সুস্থতা: চিকিৎসা শেষে ৩৬,৬৪৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
মোট মৃত্যু: ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে এ পর্যন্ত ৭৪ জন এবং হামের উপসর্গ বা সন্দেহজনক অবস্থায় মোট ৩৮৯ জন শিশু মারা গেছে।
হামের এই বর্তমান প্রকোপ এবং শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের মহামারী নিয়ন্ত্রণ ও টিকাদানের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে।
বিংশ শতাব্দীর শুরু ও টিকার অনুপস্থিতি (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে বাংলা অঞ্চলে হাম ও বসন্তের মতো সংক্রামক ব্যাধি গ্রামীণ জনপদে মহামারী আকারে দেখা দিত। তখন কোনো সুনির্দিষ্ট টিকাদান কর্মসূচি না থাকায় এবং সঠিক চিকিৎসার অভাবে হাজার হাজার শিশু অকালেই প্রাণ হারাত। ১৯০০ সালের সেই করুণ স্বাস্থ্যব্যবস্থা থেকে ২০২৬ সালের এই আধুনিক চিকিৎসা যুগে রূপান্তর এক দীর্ঘ পথ পরিক্রমা।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই (১৯৭৯-২০২০): ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) চালুর পর হামের টিকা প্রতিটি শিশুর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে ১৯০০ সালের তুলনায় বিংশ শতাব্দীর শেষে এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে এসে হামজনিত শিশু মৃত্যুর হার প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে, যা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছিল।
২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের নানা উদ্যোগের মাঝেও মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা এবং নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে কিছুটা স্থবিরতা বা ঘাটতি দেখা দিয়ে থাকতে পারে। ২০২৬ সালের এই মে মাসে এসে হামের এই হঠাৎ উল্লম্ফন ও মোট মৃত্যু সংখ্যা বৃদ্ধি স্বাস্থ্য বিভাগের মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন দাঁড় করিয়েছে।
২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের সেই কুসংস্কার ও ওঝা-বৈদ্যের আমল থেকে ২০২৬ সালের এই উন্নত ল্যাবরেটরি ও আইসোলেশন ইউনিটের যুগে পৌঁছেও কেবল ঢাকা বিভাগেই ২৫ হাজারেরও বেশি শিশু আক্রান্ত হওয়া এবং মৃত্যু অব্যাহত থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। জলবায়ু পরিবর্তন ও মে মাসের তীব্র গরম এই ভাইরাসের বিস্তারে ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ইতিহাস সাক্ষী, যেকোনো সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের শতভাগ কাভারেজ নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। ১৯০০ সালের সেই পরাধীন আমলের অসহায়ত্ব থেকে ২০২৬ সালের এই স্বাধীন বাংলাদেশে চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেক উন্নত হলেও, প্রান্তিক ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় (বিশেষ করে ঢাকার বস্তি অঞ্চলগুলোতে) টিকার গতি বাড়ানো এখন জরুরি। প্রতিদিন শিশুদের এই প্রাণহানি প্রতিরোধ করতে হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবিলম্বে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বিভাগগুলোতে বিশেষ ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ বা জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করতে হবে।
সূত্র: ১. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে প্রেরিত নিয়মিত দেশের করোনা ও সাধারণ মহামারী সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি (১৬ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বাংলাদেশে সংক্রামক ব্যাধি ও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) ইতিহাস (১৯০০-২০২৬)।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |