| বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ২০২৬

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 16-05-2026 ইং
  • 15651 বার পঠিত
কুমিল্লা বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ২০২৬
ছবির ক্যাপশন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

কুমিল্লা বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

জনগণের দীর্ঘদিনের যৌক্তিক দাবি ‘কুমিল্লা বিভাগ’ এবং এই অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "নির্বাচনে জনগণের কাছে আমরা যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, ক্ষমতায় আসার পর আমরা একটা একটা করে তার সবই বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। কুমিল্লা বিভাগ যদি জনগণের দাবি হয়ে থাকে, তবে ইনশাআল্লাহ তা অবশ্যই বাস্তবায়ন হবে।"

শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল ও সুশৃঙ্খল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিঋণ মওকুফ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা

কুমিল্লার কৃষি ঐতিহ্য এবং প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন:

  • ১২ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফ: নির্বাচনের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার পূরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমরা সরকার গঠনের মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই ১২ লাখ প্রান্তিক কৃষকের বকেয়া কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করে দিয়েছি। এর মাধ্যমে লাখ লাখ কৃষক ঋণমুক্ত হয়ে নতুন করে চাষাবাদের সাহস পেয়েছেন।"

  • কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন: কুমিল্লাকে দেশের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী অঞ্চল হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এখানকার স্থানীয় জনগণের দাবি মেনে একটি নতুন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ দ্রুত শুরু হবে। এ বিষয়ে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই শিক্ষামন্ত্রীর সাথে প্রয়োজনীয় আলোচনা করবেন বলে জানান সরকারপ্রধান।

দেশের অর্থনীতি ও ফ্যাসিবাদের ক্ষত

বিগত ১৭ বছরের স্বৈরশাসনের কারণে দেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে জনগণের কাছে কিছুটা সময় ও ধৈর্য চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন:

  • বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের মানুষের ওপর গুম, খুন, নির্যাতন ও গুলি চালিয়েছে এবং জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে।

  • এই লাগামহীন লুটপাটের কারণে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি বর্তমানে অত্যন্ত চাপের মুখে রয়েছে।

  • "জনগণই বিএনপির আসল শক্তি"—একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন স্লোগান দিয়ে—"করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।"

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে এ পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, কুমিল্লা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।


কুমিল্লার প্রশাসনিক বিবর্তন ও আঞ্চলিক রাজনীতি: ১৯০০ থেকে ২০২৬

কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের এই প্রতিশ্রুতি ১৯০০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের প্রশাসনিক কাঠামো ও ভূ-রাজনীতির দীর্ঘ বিবর্তনের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

  • বিংশ শতাব্দীর শুরু ও ত্রিপুরা জেলা (১৯০০-১৯৪৭): ১৯০০ সালের দিকে বর্তমান কুমিল্লা অঞ্চলটি ব্রিটিশ ভারতের ‘তিপ্পেরা’ বা ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এটি চট্টগ্রাম বিভাগের অধীনে পরিচালিত হতো। ১৯০০ সালের সেই ঔপনিবেশিক আমল থেকেই ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী এই জনপদটি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন ছিল। ১৯০০ সালের সেই মহকুমা ও জেলা শহর থেকে ২০২৬ সালের এই মে মাসে ‘বিভাগ’ হওয়ার দোরগোড়ায় পৌঁছানো এক শতাব্দীর দীর্ঘ প্রশাসনিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

  • বিভাগীয় আন্দোলনের ইতিহাস ও সমীকরণ (১৯৯৫-২০১৫): নব্বইয়ের দশকের পর থেকেই বৃহত্তর কুমিল্লার মানুষ (কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর) নিয়ে ‘কুমিল্লা বিভাগ’ গঠনের দাবি তুলে আসছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ‘ময়নামতি’ বা অন্য নামে বিভাগ করার রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে তা ঝুলে যায়। ২০২৬ সালের এই মে মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি এই আশ্বাস কুমিল্লার মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে চলেছে।

  • ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব ও ২০২৬-এর নতুন ম্যান্ডেট: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ রাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার। ২০২৬ সালের এই মে মাসে এসে নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকে ১০ দিনের মধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ঋণ মওকুফের মতো বড় সিদ্ধান্ত এবং নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্র এখন জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট ও কল্যাণমুখী অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে চলছে।

  • ২০২৬-এর বর্তমান বাস্তবতা: ১৯০০ সালের লাঙল-জোয়াল আর জমিদারী খাজনার আমল থেকে ২০২৬ সালের এই আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং ও কৃষি প্রযুক্তির যুগে এসেও কুমিল্লার উর্বর মাটি ও কৃষি খাত দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল চালিকাশক্তি। ২০২৬ সালের এই মে মাসের তীব্র অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সময়ে কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন পুরো উত্তর ও দক্ষিণ জনপদের কৃষি বিপ্লবকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

বিশ্লেষণ ও উপসংহার

ইতিহাস সাক্ষী, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার প্রসার যেকোনো অঞ্চলের অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দেয়। ১৯০০ সালের সেই অবহেলিত ত্রিপুরা জেলা থেকে ২০২৬ সালের বর্তমান সমৃদ্ধ রূপ—কুমিল্লার এই অগ্রযাত্রা অনন্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আজকের এই ঘোষণাগুলো কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং ২০২৬ সালের নতুন বাংলাদেশের সুষম উন্নয়নের এক বাস্তব রূপরেখা। এই প্রতিশ্রুতিগুলোর দ্রুত প্রশাসনিক বাস্তবায়নই দেশের অর্থনীতিকে সংকট থেকে উত্তরণে বড় ভূমিকা রাখবে।


সূত্র: ১. কুমিল্লার বরুড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পথসভার প্রত্যক্ষ বিবরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (PMO) প্রেস উইং (১৬ মে, ২০২৬)। ২. ঐতিহাসিক দলিল: বিংশ শতাব্দীতে পূর্ববঙ্গের প্রশাসনিক বিবর্তন এবং বৃহত্তর কুমিল্লার সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাস (১৯০০-২০২৬)।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency