আজ ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য এবারের দিবসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬ সালে দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘প্রকৃতি থেকে প্রেরণা, জলবায়ুর জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস হলো পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টি ও কার্যক্রম জোরদারের জন্য জাতিসংঘের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ। ১৯৭২ সালে জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ সম্মেলন (United Nations Conference on the Human Environment) ৫ জুন শুরু হয়েছিল বলেই এই দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে প্রথম পরিবেশ দিবস পালিত হওয়ার পর থেকে এটি এখন ১০০টিরও বেশি দেশে কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণে বিশ্বের বৃহত্তম বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। তাদের বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রতিফলন ঘটেছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তন আজ বৈশ্বিক বাস্তবতা। এর বিরূপ প্রভাবে বন্যা, খরা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু ভিত্তিতে পুনর্গঠন করা জরুরি। তিনি জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (NAP) এবং জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC) বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী নীতি কাঠামো অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে বাংলাদেশ। এই সংকট উত্তরণে সরকার ও বিভিন্ন সংগঠন যেসব কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে:
গবেষণা ও উদ্ভাবন: জলবায়ু সহিষ্ণু শস্য উৎপাদন ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির উদ্ভাবন।
বনায়ন কর্মসূচি: প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দেশব্যাপী ব্যাপক বৃক্ষরোপণ।
সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা: দীর্ঘমেয়াদি নীতি কাঠামোর মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ রোধ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।
প্রতি বছর ভিন্ন ভিন্ন শহর ও ভিন্ন ভিন্ন প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হওয়া এই দিবসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবী আমাদের একমাত্র আবাসস্থল। দিবসটি উপলক্ষে আজ রাজধানীসহ সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি, সেমিনার ও বৃক্ষরোপণ অভিযান গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকৃতির ওপর মানুষের বিরূপ আচরণ বন্ধ না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
প্রকৃতি ও পরিবেশ সংক্রান্ত সব ব্রেকিং নিউজ এবং পরিবেশ সুরক্ষার বস্তুনিষ্ঠ আপডেট সবার আগে নির্ভরযোগ্যভাবে পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |