প্রতিবেদক | বাংলাদেশ প্রতিদিন
প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬
জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করার সময় স্পিকারের চেয়ার বা হাউজের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ঐতিহ্যবাহী রেওয়াজ হিসেবে ‘মাথা ঝোঁকানো’ (Bowing) নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য (এমপি) অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। এই রীতিটিকে ইসলামের আকীদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ‘শিরকসদৃশ’ হিসেবে উল্লেখ করে এটি পুরোপুরি পরিহার করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা এ বিষয়ে নিজের আপত্তি ও যুক্তি তুলে ধরেন। এ সময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বৈঠকের শুরুতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতের সংসদ-সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান সংসদীয় রীতির ইতিহাস টেনে বলেন, ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে সংসদে ঢোকার পর মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শন করার কথা স্পষ্টভাবে বলা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়।
স্পিকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন:
"মাথা ঝুঁকিয়ে এভাবে সম্মান প্রদর্শন করার বিষয়টি ইসলামের তাওহীদি বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, এটি এক প্রকার শিরকের কাছাকাছি চলে যায়। সেই ধর্মীয় সংবেদনশীলতার কারণেই আইনপ্রণেতারা আলোচনা করে ইতঃপূর্বে বিধিটি সংশোধন করে বাদ দিয়েছিলেন।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমি মাঝেমধ্যে খেয়াল করি, আপনি (স্পিকার) খুব সুন্দরভাবে সালাম দেন। আমরাও সালাম দিই এবং সালামের জবাব দিই। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় সেই আগের মাথা ঝোঁকানোর ‘ঝুঁকন্তি’ আমলটি এখনো রয়ে গেছে। আপনার মধ্যেও আছে, মাননীয় ডেপুটি স্পিকারের মধ্যেও এটি দেখা যায়।"
জামায়াতের এই আইনপ্রণেতা মন্তব্য করেন যে, কার্যপ্রণালি বিধিতে ‘শিরককে উৎখাত’ করার জন্য যে সংশোধন আনা হয়েছে, তা সংসদের সব সদস্যেরই কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত। এর মাধ্যমে পরকালে নেকি হাসিল হবে এবং গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা যাবে, যা কাল-কেয়ামতেও মুসলিম হিসেবে আমাদের উপকারে আসবে।
সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের এই আপত্তির জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নাকচ না করে ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। তবে এটি সদস্যদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার রুলিংয়ে বলেন:
ব্যক্তিগত স্বাধীনতা: "সংসদ কক্ষে প্রবেশের পর কে কীভাবে সম্মান জানাবেন, তা অনেকাংশেই সবার ব্যক্তিগত বিষয়। এখানে জোরজুলুমের কিছু নেই। কেউ চাইলে দাঁড়িয়ে সালাম দেবেন, আবার কেউ চাইলে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান জানাতে পারেন।"
বৈশ্বিক রেওয়াজ: "শুধু বাংলাদেশ নয়, কমবেশি সারা পৃথিবীর প্রায় সব দেশের সংসদেই হাউস ও আসনের প্রতি সম্মান দেখানোর এমন ঐতিহ্যবাহী রেওয়াজ চালু আছে।"
তা সত্ত্বেও, বিগত কোনো সংসদে বা কার্যপ্রণালি বিধির সংশোধনীতে মাথা ঝুঁকানোর এই নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছিল কি না, তা সংসদীয় নথিপত্র ও কার্যপ্রণালি বিধি (Rules of Procedure) আরেকটু গভীরভাবে খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে হাউজকে জানাবেন বলে আশ্বাস দেন স্পিকার।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী সাধারণত অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় স্পিকারের আসনের দিকে তাকিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে বা দাঁড়িয়ে সালাম দিয়ে সম্মান জানানোর দীর্ঘদিনের চর্চা রয়েছে। জামায়াত এমপির এই পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার পর সংসদীয় অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তাত্ত্বিক ও ধর্মীয় আলোচনা শুরু হয়েছে।
| পক্ষ | উত্থাপিত যুক্তি ও অবস্থান |
| অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (জামায়াত) | মাথা ঝুঁকানো ইসলামের পরিপন্থী ও শিরকসদৃশ। কার্যপ্রণালি বিধির সংশোধনী মেনে সবার এটি পরিহার করা উচিত। |
| হাফিজ উদ্দিন আহমদ (স্পিকার) | এটি একটি বৈশ্বিক সংসদীয় রেওয়াজ এবং সদস্যদের নিজস্ব ব্যক্তিগত বিষয় (কেউ সালাম দেবেন, কেউ মাথা ঝোঁকাবেন)। |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | বিগত সংসদে নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল বা সংশোধন করা হয়েছিল কি না, তা কার্যপ্রণালি বিধি দেখে জানাবেন স্পিকার। |
সংসদীয় প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |