আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনীতি ডেস্ক
সর্বশেষ আপডেট: ২০ জুলাই, ২০২৬
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান প্রত্যক্ষ যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে ইসরাইলে বিপুলসংখ্যক দূরপাল্লার সামরিক রিফুয়েলিং (আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান পাঠিয়েছে পেন্টাগন। গত সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি বিশেষায়িত রিফুয়েলিং বিমান ইসরাইলি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। ইসরাইলভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ালা’ (Walla) দেশটির বিমানবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিব যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ইসরাইলের বিভিন্ন কৌশলগত সামরিক ঘাঁটি এবং দক্ষিণাঞ্চলের রামন বিমানবন্দরে মোট ১০০টি রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েনের একটি মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরাইলি বিমানবাহিনীর ওই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
“যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে তাদের বিমান অভিযান আরও বিস্তৃত ও জোরদার করতে চায়, তবে ইসরাইলের মাটিতে আরও বেশি রিফুয়েলিং বিমানের ব্যাকআপ প্রয়োজন হবে। দূরপাল্লার অভিযানের কৌশলগত অংশ হিসেবে এসব মার্কিন বিমান প্রয়োজনে তেল আবিবের প্রধান বেসামরিক বিমানবন্দর ‘বেন গুরিয়ন’-এও অবতরণ ও অবস্থান করতে পারে।”
সামরিক সূত্রগুলোর দাবি, বর্তমানে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৩৩টি রিফুয়েলিং বিমান অবস্থান করছে। গ্রীষ্মকালীন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ মৌসুমের মাঝে বেসামরিক বিমানবন্দরে এই বিপুল সামরিক উপস্থিতির কারণে সাধারণ যাত্রীবাহী বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ও শিডিউল বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে ইসরাইলি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আগেই সতর্কবার্তা জারি করেছে। তবে বর্তমানে ইসরাইলের মাটিতে মোট কতটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট রয়েছে, তা সামরিক গোপনীয়তার স্বার্থে তেল আবিব আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
ইসরাইলের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ (Kan) জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক সামরিক মোতায়েন পুনর্বিন্যাসের (Military Realignment) একটি নতুন মাস্টারপ্ল্যান সম্পর্কে ইসরাইল সরকারকে বিস্তারিত অবহিত করেছে।
✈️ মার্কিন এয়ারফোর্সের নতুন অবস্থান ও রুট:
• ওভদা বিমানঘাঁটি: ট্রাম্পের নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ৪৮ ঘণ্টায় বেশ কয়েকটি মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান দক্ষিণ ইসরাইলের ওভদা (Ovda) সামরিক বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে।
• বেন গুরিয়ন ও রামন: ওভদা ছাড়াও দক্ষিণাঞ্চলের রামন এবং তেল আবিবের বেন গুরিয়নে মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য বিশেষ রানওয়ে ও হ্যাঙ্গার বরাদ্দ করা হয়েছে।
• লক্ষ্য: এই বিশেষ বিমানগুলো মূলত মার্কিন ও ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলোকে মাঝ-আকাশে জ্বালানি সরবরাহ করবে, যাতে তারা দূরপাল্লার পথ পাড়ি দিয়ে সরাসরি ইরানের অভ্যন্তরে বোমাবর্ষণ করে নিরাপদে ফিরে আসতে পারে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে শুরু হওয়া প্রত্যক্ষ যৌথ সামরিক সংঘাতের পর থেকেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বারুদের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় ওমান ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ব্যবহারকারী দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল তেহরান।
যদিও গত মাসে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ও কূটনীতিকদের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে (MoU) পৌঁছেছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ও ইরানি নৌবাহিনীর মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও তেলবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনার পর সেই শান্তি প্রক্রিয়া পুরোপুরি ভেস্তে গেছে। ফলে নতুন করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধাবস্থা মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়ংকর আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |