| বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সংঘাত তীব্র: ১৭ জন নিহত, বন্ধ ইন্টারনেট

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 29-07-2026 ইং
  • 5563 বার পঠিত
পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সংঘাত তীব্র: ১৭ জন নিহত, বন্ধ ইন্টারনেট
ছবির ক্যাপশন: পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে সংঘাত তীব্র

রাওয়ালাকোট ও মিরপুরে ভারী গোলাগুলি: ১৭ জন নিহত, উত্তপ্ত আজাদ কাশ্মীর

আন্তর্জাতিক ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ডেস্ক

২৯ জুলাই, ২০২৬

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (আজাদ কাশ্মীর) স্থানীয় নির্বাচন বর্জনের ডাক দেওয়া বিক্ষোভকারী এবং সাধারণ জনগণের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি মারাত্মক রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। রাওয়ালাকোট ও মিরপুরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে ‘জম্মু ও কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-র সশস্ত্র প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টানা গোলাগুলিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুরো অঞ্চলজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং মিরপুরে দোকানপাট বন্ধসহ পুরো স্বাভাবিক জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে।

স্মার্ট সারসংক্ষেপ (Quick Takeaways)

  • 📌 নিহতের তথ্য: জেএএসি-র দাবি অনুযায়ী গত ৪৮ ঘণ্টার সংঘর্ষে রাওয়ালাকোট ও মিরপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তাদের ১৭ কর্মী নিহত হয়েছেন। অপরদিকে প্রশাসনের মতে তাদের ১ রেঞ্জার্স সদস্য নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন।

  • 📌 ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট: থমথমে পরিস্থিতির মধ্যে অঞ্চলজুড়ে মোবাইল ফোন ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।

  • 📌 মূল দাবি: কাশ্মীর আইনসভায় পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের বাইরে থাকা ‘কাশ্মীরি শরণার্থীদের’ জন্য নির্ধারিত ১২টি সংরক্ষিত আসন বাতিলের দাবিতে গত ৯ জুন থেকে এই বিক্ষোভ ও লংমার্চ চলছে।

  • 📌 মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ: সংঘাত তীব্র রূপ নেওয়ায় স্বাধীন নিরপেক্ষ তদন্ত ও ব্ল্যাকআউট তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও এইচআরসিপি (HRCP)।

রাওয়ালাকোট ও দারিক অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি

রাওয়ালাকোট শহরের দারিক এলাকায় জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (JAAC) আন্দোলনকারীরা অবস্থান নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসনের দাবি, নিষিদ্ধ সংগঠনের সশস্ত্র সদস্যরা নির্মাণাধীন ভবন থেকে রেঞ্জার্স ও পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে টানা গুলি চালাচ্ছে।

আবিদ শাহীন (কোর কমিটির সদস্য, JAAC):

"গত ৪৮ ঘণ্টায় কেবল রাওয়ালাকোটের দারিক এলাকাতেই আমাদের ১১ জন এবং মিরপুরে পুলিশের গুলিতে ৬ কর্মী শহীদ হয়েছেন। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা আঞ্চলিক রাজধানী মুজাফফরাবাদের অভিমুখে আমাদের ঘোষিত 'লংমার্চ' থামাব না।"

📊 সংঘাতের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি ও অচলাবস্থার চিত্র:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ • আন্দোলনকারী পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি: ১৭ জন কর্মী নিহত ও বহু আহত (JAAC দাবি)। │
│ • রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি   : ১ জন রেঞ্জার্স সদস্য নিহত, ৪ জন সদস্য আহত।│
│ • ব্ল্যাকআউট ও যোগাযোগ সংকট  : মোবাইল ইন্টারনেট সম্পূর্ণ বন্ধ; কেবল স্থবির ল্যান্ডলাইন।│
│ • কর্মসূচি                    : রাওয়ালাকোট থেকে রাজধানী মুজাফফরাবাদের দিকে লংমার্চ।│
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘

ইসলামাবাদ বনাম কাশ্মীরের রাজনৈতিক তোপ

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন বিক্ষোভকারীদের 'সশস্ত্র জঙ্গিদের দোসর' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আজাদ কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী ফয়সাল মুমতাজ রাঠোর এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ দাবি করেন, নির্বাচনের পরিবেশ বিনষ্ট করে বৃহৎ পরিসরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই ছিল এই লংমার্চের উদ্দেশ্যে।

অপরদিকে, জাতীয় পরিষদের বিরোধীদলীয় নেতা মাহমুদ খান আচাকজাই এবং পিপিপি (PPP) প্রধান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি কাশ্মীরে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের সমালোচনা করেছেন। পরিস্থিতি নিরসনে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি নিরপেক্ষ 'ট্রুথ কমিশন' (Truth Commission) গঠনের রূপরেখা দিয়েছেন বিলাওয়াল ভুট্টো।

সংকটের মূল কারণ: বিতর্কিত ১২ আসন

৫৩ সদস্যের কাশ্মীরি আইনসভায় এমন ১২টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে, যা ১৯৭০-এর দশকে পাকিস্তানে শরণার্থী হিসেবে আসা কাশ্মীরিদের জন্য রাখা হয়েছিল।

🏛️ কাশ্মীরি আইনসভার বিতর্কিত কাঠামোগত দ্বন্দ্ব:
┌─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┐
│ ১. সংরক্ষিত আসন বৈষম্য: ১২টি সংরক্ষিত আসনের প্রার্থীরা বাস্তবে এই অঞ্চলে  │
│                       বসবাস করেন না, ফলে স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ণ হয়।   │
│ ২. JAAC-এর দাবি     : আইনসভার প্রতিটি আসন স্থানীয়ভাবে বসবাসকারী প্রকৃত   │
│                       কাশ্মীরি নাগরিকদের হতে হবে।                        │
└─────────────────────────────────────────────────────────────────────────┘

গভীর ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ (In-Depth Analytical Breakdown)

আজাদ কাশ্মীরে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি

  • প্রশাসনিক ব্যর্থতার চরম রূপ: প্রখ্যাত পাকিস্তানি সাংবাদিক তালাত হুসেইন এবং মুশাহিদ হুসেইন সাইয়্যেদের মতে, ইসলামাবাদ ও আঞ্চলিক প্রশাসনের ভুল নীতির কারণেই স্থানীয় রাজনৈতিক আন্দোলন এখন পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র সংকটে মোড় নিয়েছে।

  • আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ ও ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট আরোপ করা হলে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক অবস্থান মারাত্মক ক্ষুণ্ন হবে।

তথ্যসূত্র (Source): বিবিসি উর্দু (BBC Urdu) / জিও নিউজ (Geo News)

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency