প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের ইতিহাসের বৃহত্তম ও প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর একদম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার এই মেগা প্রকল্পটি চালুর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতে এক নতুন ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া বা ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ (First Criticality) শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। গত ৮ অক্টোবর প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন বা নিয়ন্ত্রিত পরমাণু বিভাজন প্রক্রিয়া শুরুর প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মইনুল হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানের কাছে ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স হস্তান্তর করেছেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এই অনুমোদনের ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে রিঅ্যাক্টরের ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে বড় কোনো বাধা নেই। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা হবে। পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে দেশের বিদ্যুতের ঘাটতি ধীরে ধীরে উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।
ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপের পর কেন্দ্রটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এ ধাপে ধীরে ধীরে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বৃদ্ধি, টারবাইনের সঙ্গে সমন্বয় সাধন এবং পরিশেষে জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এ জন্য পরিচালনাকারী সংস্থাকে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে।
প্রথম ইউনিটকে প্রাথমিকভাবে কম ক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করে ধাপে ধাপে উৎপাদনক্ষমতা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। গ্রিডে সংযোগের পর প্রায় সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলতে পারে। এরপর সব প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে এই মেগা প্রকল্প।
মোট ব্যয়: মূল মেয়াদ ও ঠিকাদারের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ না থাকলেও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।
প্রকল্পের মেয়াদ: প্রকল্পের মূল মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও দুই দফায় তা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।
আয়ুষ্কাল: কেন্দ্রটির প্রাথমিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ৬০ বছর, যা পরবর্তীতে আরও ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব।
বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের অভিজাত ক্লাবে যুক্ত হবে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক অর্জিত হবে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |