প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ
দেশের এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) বাজারের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও অস্থিতিশীলতা রোধে সরকারি উদ্যোগে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও গত সাত মাসে এক কেজি এলপিজিও দেশে আনতে পারেনি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ সময়ের মধ্যে সংস্থাটি পাঁচ দফা আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেও কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত করতে পারেনি। সরকারি সংস্থার এমন ধারাবাহিক ব্যর্থতার সুযোগে বাজারের বড় অংশ এখনো বেসরকারি আমদানিকারকদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে দেশের এলপিজি বাজারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হলে বিপিসি সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি ও মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত মোট পাঁচবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়।
ফ্রেইট চার্জ নিয়ে মতপার্থক্য: দরপত্রগুলোতে কয়েকটি কোম্পানি অংশ নিলেও প্রতি টন এলপিজির জন্য তারা অস্বাভাবিকভাবে প্রায় ২৭০ ডলার জাহাজ ভাড়া বা ফ্রেইট চার্জ দাবি করে। অথচ সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে জাহাজ ভাড়া ছিল ২০০ ডলারের কম। অযৌক্তিক এই প্রিমিয়াম বা ফ্রেইট চার্জের প্রস্তাব আসায় বিপিসি কোনো চুক্তি করেনি।
সরাসরি ক্রয়নীতিতেও অচলাবস্থা: দরপত্রে কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পেয়ে পরবর্তীতে সরাসরি ক্রয়নীতি বা ডিপিএমের অধীনে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। গত ৭ অক্টোবর সরকারি ক্রয় কমিটিতে ‘স্পিড মার্কেটিং করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি টন মাত্র ৯৭ ডলার ফ্রেইট চার্জে এলপিজি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর ২ কোটি টাকার পারফরম্যান্স গ্যারান্টিও জমা দেয়। কিন্তু চুক্তির পরও এখন পর্যন্ত এক কেজি এলপিজি সরবরাহ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
বিপিসির চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, “পাঁচবার টেন্ডার ডেকেও কোনো কোম্পানিকে এলপিজি সরবরাহের কাজ দেওয়া যায়নি। প্রধান কারণ ছিল দরপত্রে অস্বাভাবিক প্রিমিয়াম দাবি। বর্তমানে বিপিসি আরও বড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে এলপিজি আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
জ্বালানি বিভাগের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি খাত সরবরাহ করে ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং সরকারি খাতের অংশ মাত্র ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বিপিসির আওতাধীন ‘এলপিজি গ্যাস লিমিটেড’ বর্তমানে দেশের চাহিদার মাত্র ২ শতাংশের কম জোগান দিচ্ছে।
বাজারে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি বেসরকারি কোম্পানির একক আধিপত্য রয়েছে:
দেশের মোট এলপিজি সরবরাহের প্রায় ৬৮ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে চারটি কোম্পানি—ওমেরা পেট্রোলিয়াম, পেট্রোম্যাক্স, মেঘনা এবং যমুনা স্পেসটেক।
এছাড়া বিএম এনার্জি ৮ শতাংশ, ইউনাইটেড আইগ্যাজ ৭ শতাংশ, ডেল্টা ৪ শতাংশ এবং জেএমআই ও প্রিমিয়াম এলপিজি মিলে আরও ৩ শতাংশ সরবরাহ করে।
বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে দেশে নিয়মিত দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজি আমদানি হলেও বিপিসির নিজস্ব কোনো সরবরাহ না থাকায় দাম ও জোগান নিয়ে ভোক্তাদের ভোগান্তি ও নানা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
সরকারি খাতে এলপিজির মজুত ও সরবরাহ সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য মোংলায় ৮ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার ট্যাংক নির্মাণ, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা এবং চট্টগ্রামের দক্ষিণ কাট্টলীতে বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাতারহাড়ী জেটি ব্যবহার করে বড় জাহাজে এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও এসব প্রকল্পের কাজ এখনো দৃশ্যমান পর্যায়ে যায়নি।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মতে, যত দ্রুত বিপিসি সরাসরি এলপিজি আমদানি করতে পারবে, জনগণ তত দ্রুত সুফল পাবে। কিন্তু দীর্ঘ সাত মাসেও আমদানির লক্ষ্য বাস্তবায়িত না হওয়ায় সরকারি উদ্যোগের কার্যকারিতা ও বিপিসির দরকষাকষির সক্ষমতা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |