| বঙ্গাব্দ

চ্যাটজিপিটির সহায়তায় সাবেক প্রেমিকার বিরুদ্ধে মামলা জিতলেন যুবক

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 30-09-2026 ইং
  • 6255 বার পঠিত
চ্যাটজিপিটির সহায়তায় সাবেক প্রেমিকার বিরুদ্ধে মামলা জিতলেন যুবক
ছবির ক্যাপশন: সাবেক প্রেমিকার বিরুদ্ধে মামলা জিতলেন যুবক

চ্যাটজিপিটির আইনি সহায়তায় মামলা লড়ে সাবেক প্রেমিকার কাছ থেকে ৪০ হাজার পাউন্ড পেলেন ব্রিটিশ দমকলকর্মী

প্রতিবেদক: বুলবুল আহমেদ

আইনি লড়াইয়ের জন্য আইনজীবীর চড়া ফি জোগাড় করার সামর্থ্য ছিল না। শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা চ্যাটজিপিটির সাহায্য নিয়ে নিজেই আদালতে মামলা পরিচালনা করলেন যুক্তরাজ্যের এক দমকলকর্মী। আর এই অসাধ্য সাধনের সুবাদে সাবেক প্রেমিকার কাছ থেকে সফলভাবে জিতে নিলেন ৪০ হাজার পাউন্ড।

ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাজ্যে। ক্রেইগ টিচেনার নামের ৪০ বছর বয়সি এক দমকলকর্মী ২০১৯ সালের নভেম্বরে ‘উইন্টার ওয়ান্ডারল্যান্ডস’ লটারি স্ক্র্যাচকার্ডে ২ লাখ পাউন্ড পুরস্কার জিতেছিলেন। এর প্রায় তিন বছর পর, ২০২২ সালে তিনি তাঁর তৎকালীন প্রেমিকা হিদার ডগলাসকে ৪০ হাজার পাউন্ড দেন। পেশায় সাইকিয়াট্রিক নার্স ডগলাসের আর্থিক বিষয়ে ভালো জ্ঞান থাকায় টিচেনার চেয়েম্মদছিলেন, তাঁর পক্ষে ওই অর্থ যেন বিনিয়োগ করা হয়। আদালতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুজনের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল যে টাকাগুলো প্রিমিয়াম বন্ডে বিনিয়োগ করা হবে এবং তা থেকে আসা মুনাফা দুজনে ভাগ করে নেবেন।

কিন্তু এর কিছুদিন পরই তাঁদের সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং বিচ্ছেদ ঘটে। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর টিচেনার তাঁর দেওয়া সেই ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত চান। কিন্তু ডগলাস টাকাগুলো ফেরত দিতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানান।

আইনি সহায়তার জন্য প্রথমে আইনজীবীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছিলেন টিচেনার। তবে আইনজীবীদের যে ফি ছিল, তা তাঁর পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব ছিল না। উপায়ন্তর না পেয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটজিপিটির দ্বারস্থ হন।

চ্যাটজিপিটি তাঁকে আইনি লড়াইয়ের ক্ষেত্রে দারুণ সব দিকনির্দেশনা দেয়। কোন কোন ফর্ম পূরণ করতে হবে, আদালতের আইনি প্রক্রিয়া কেমন হবে এবং নিজেই কীভাবে নিজের পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন—তার প্রতিটি ধাপ চ্যাটজিপিটি তাঁকে শিখিয়ে দেয়। সেই এআই নির্দেশিকা মাথায় রেখে সেন্ট্রাল লন্ডন কাউন্টি কোর্টে নিজেই নিজের পক্ষে মামলা লড়েন ক্রেইগ টিচেনার।

আদালতে টিচেনার অকপটে স্বীকার করেন যে, আইনজীবী ছাড়া একা একা আদালতে লড়াই করা তাঁর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তবে চ্যাটজিপিটির সাহায্য না পেলে তিনি হয়তো এই আইনি লড়াইয়ে জয়ী হতে পারতেন না।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত হিদার ডগলাসের দাবি ছিল—ওই ৪০ হাজার পাউন্ড তাঁকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালতে তিনি এই দাবির পক্ষে কোনো যথাযথ প্রমাণ পেশ করতে পারেননি। এমনকি আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও তিনি নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে ব্যর্থ হন। উল্টো তিনি টিচেনারের বিরুদ্ধে তাঁকে হয়রানি করার চেষ্টার অভিযোগ তোলেন।

সব পক্ষের শুনানি ও প্রমাণ পর্যালোচনার পর সেন্ট্রাল লন্ডন কাউন্টি কোর্ট ক্রেইগ টিচেনারের পক্ষেই রায় দেন। এর ফলে সাবেক প্রেমিকার কাছ থেকে তাঁর পাওনা ৪০ হাজার পাউন্ড ফেরত পাওয়ার পথ পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যায়।

আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency